যশোরে পৃথক মাদক মামলায় দু’জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে পৃথক মাদক মামলায় দু’জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আর ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় এক মামলার আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক ফৌজিয়া হাফসা পৃথক রায়ে এ সাজা দিয়েছেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান কারিগর ও যশোর শহরের খড়কি ধোপাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে হাফিজুর রহমান। সাজাপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ জুন জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল শার্শার ইছাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ট্রাকচালক মিজানুর রহমান কারিগরকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে ট্রাকের পেছনের অংশ থেকে ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই সেকেন্দার আবু জাফর বাদী হয়ে আটক মিজানুর রহমানসহ ৯ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলা তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। মামলার অপর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শার্শার ইছাপুর গ্রামের বকুল হোসেন, আঃ রহমান, মশিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, সুজন, রুবেল, ফরহাদ হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম।

অপরদিকে, ২০১৮ সালের ২৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ হাফিজুর রহমানের শহরের খড়কি ধোপাপাড়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় হাফিজুরকে আটক ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পাশে মোকলেছুর রহমানের পরিত্যক্ত ঘর তল্লাশি করে ২৭ বোতল ফেনসিডিল, ৪০টি খালি ফেনসিডিলের বোতল ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই আলিমুজ্জামান বাদী হয়ে আটক হাফিজুরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আটক হাফিজুরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি হাফিজুরের বিরুদ্ধে ১৯ (১) ও ৩ (খ) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড এবং ৭ (ক) ধারায় ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমান বর্তমানে কারাগারে আটক আছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন